রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ন
বিবিএস আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে অবশেষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। একইসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করতে আগামী শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার (স্থানীয় সময় সন্ধ্যা) এ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এই সমঝোতার অংশ হিসেবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই সম্পন্ন হয়।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে এবং বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়।
বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এ যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত রাজনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, টেকসই সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতির শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই ধরনের আহ্বান জানিয়েছে মিশর, যারা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সংলাপ ও সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছে।
ওমান ও তুরস্ক যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে এবং আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় আলোচনায় সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে আঙ্কারা।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সব পক্ষকে যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত হতে পারে। একইসঙ্গে সংঘাত বন্ধ করে বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, ইরান যাতে ভবিষ্যতে পারমাণবিক বা সামরিক হুমকি হয়ে উঠতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননে চলমান সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
জাপান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডসহ একাধিক দেশ এ সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ভারতও যুদ্ধবিরতিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, উত্তেজনা প্রশমন ও সংলাপই এ ধরনের সংকট মোকাবিলার একমাত্র কার্যকর পথ। হরমুজ প্রণালিতে নির্বিঘ্ন নৌ চলাচল বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে নয়াদিল্লি।
জার্মানি এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে প্রশংসা করেছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
অন্যদিকে ইউক্রেইন এই ঘটনাকে উল্লেখ করে বলেছে, আন্তর্জাতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের এমন দৃঢ় ভূমিকা অন্য ক্ষেত্রেও কার্যকর হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি সাময়িক স্বস্তি দিলেও স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক আলোচনাই হবে মূল চাবিকাঠি। ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া বৈঠক তাই এখন বিশ্বরাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।