মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৭ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধি: যশোরের শার্শায় চোর সন্দেহে স্থানীয়দের হাতে আটক ছয়জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার পশ্চিমকোটা গ্রামের বাগুড়ী কোটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন, পশ্চিমকোটা গ্রামের মাহিন হোসেন (২০), সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার দরবাসা গ্রামের মিজানুর রহমান (২০), পশ্চিমকোটা গ্রামের রাহুল হোসেন (২১), আবু সাঈদ (২০), শার্শার বাগুড়ী বেলতলা গ্রামের জাকির হোসেন কালু (৩৫) এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের কামরুল ইসলাম (৪০)। কামরুল বর্তমানে কলারোয়া উপজেলার কিসমত ইলিশপুর এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে বাগুড়ী কোটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ছয়জনকে একসঙ্গে অবস্থান করতে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজন তাদের আটক করে রাখেন। খবর পেয়ে বাগআঁচড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, গ্রেফতার ছয়জনের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাদের কয়েকজন বিভিন্ন সময় মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা, বহন ও মাদকসেবীদের সঙ্গে যোগাযোগসহ মাদকসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এসব কারণে এলাকায় তাদের চলাফেরা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
পুলিশের প্রতিবেদনে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়ার সময় ছয়জন গণপিটুনির শিকার হন বলেও পুলিশ জানিয়েছে। পরে তাদের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পরে গ্রেফতার ছয়জনকে যথাযথ পুলিশ প্রহরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের বাড়ি ভিন্ন জেলায় হওয়ায় সঠিক নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট স্থানে তথ্য পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, স্থানীয়দের সন্দেহের ভিত্তিতে ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আটক হওয়ার সময় তারা গণপিটুনির শিকার হওয়ায় কয়েকজনকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অপকর্মে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।