বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪২ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
শার্শার ত্রিমোহনী মাদকের স্বর্গরাজ্য মামলার আসামি বাবা ছেলে শার্শা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতির রোগমুক্তি কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত শার্শায় চোর সন্দেহে আটক ৬ জন আদালতে শার্শায় ৫০ পিস ইয়াবাহ গ্রেপ্তার ১ হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির কেন আমাদের পাহারা দিতে হবে? বাংলাদেশ সবার -জাহাঙ্গীর হোসেন কাগজপুকুর-কাগমার সড়কের দুর্ভোগ দ্রুত দূর করতে চাই—ইমদাদুল হক ইমদা ঝিকরগাছায় ২ কেজি গাঁজাসহ যুবক আটক, মোটরসাইকেল জব্দ বেনাপোলে ব্যবসায়ী সংগঠন দখলে মনগড়া কমিটি গঠনের অভিযোগ ভারতের বিরুদ্ধে বাগআঁচড়ার সামটা টেংরা একাদশের খেলোয়াড়দের জার্সিউপহার দিলেন বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন স্ক্যানিং পয়েন্টে অসুস্থ যাত্রীদের মানসিক ও শারীরিক নিপীড়ন: কাস্টমস কর্মকর্তা মিজানের অপেশাদার আচরণে ক্ষোভ

বেনাপোল বন্দরে হাফিজুর ও রুহুল আমিন ‘জামাই-শ্বশুর’ সিন্ডিকেটে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

Reporter Name / ১৩২ Time View
Update Time : বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪২ অপরাহ্ন
Oplus_16908288

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ
বেনাপোল স্থলবন্দরের ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডের স্কেল নম্বর-৬ ঘিরে ওজন কারসাজি এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বন্দরের ট্রাফিক পরিদর্শক হাফিজুর রহমান মিয়া এবং তার চাচা শ্বশুর মো. রুহুল আমিন, উপপরিচালক (ট্রাফিক)। একই পরিবারের ঘনিষ্ঠ এই দুই কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে বন্দরের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৩১-এর ফলের মাঠের স্কেল নম্বর-৬-এ হাফিজুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই পণ্যবাহী গাড়ির ওজন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। ওই সময় পরিমাপ করা একটি গাড়ি পুনরায় ওজন করানো হলে দুই দফা ওজনের মধ্যে প্রায় ৫৭০ কেজি পার্থক্য পাওয়ার প্রমাণ মেলে।

ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি স্থলবন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে এখানেই তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, হাফিজুর রহমানের চাচা শ্বশুর একই বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মো. রুহুল আমিন নিজেই তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশের কপিও রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়কে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করায় স্বাভাবিকভাবেই তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আরও অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত কমিটি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করে দাপ্তরিক কক্ষে বসেই তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে।
পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ হাফিজুর রহমানকে স্কেল থেকে সরিয়ে বিলিং সেকশনে বদলি করে বলে জানা যায়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বন্দরের পরিচালক বদলি হলে উপপরিচালক রুহুল আমিন আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই অবস্থায় পূর্বের ওজন কারসাজির অভিযোগের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হলেও হাফিজুর রহমানকে আবারও স্কেলের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় বন্দরের সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, যার বিরুদ্ধে স্কেলের ওজন নিয়ে কারসাজির অভিযোগ উঠেছে, তদন্তের পর তাকে সরিয়ে দেওয়ার পর আবার কীভাবে তাকে একই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল করা হলো?

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে উপপরিচালক (ট্রাফিক) মো. রুহুল আমিনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি অভিযোগের সরাসরি ও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। বরং প্রশ্ন এড়িয়ে নিজের অবস্থানের পক্ষে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করে বলেন এসব শেখানো কথা অফিসে আসেন কথা হবে।

বন্দর সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, স্কেলের ওজনের সামান্য কারসাজিও পণ্যভেদে বড় ধরনের রাজস্ব ক্ষতির কারণ হতে পারে। ফলে স্কেল নম্বর-৬-এর ওজন সংক্রান্ত অভিযোগ, এনএসআইয়ের অভিযানের সময় পাওয়া ওজনের পার্থক্য, সংশ্লিষ্ট স্কেল স্লিপ এবং তদন্ত কমিটির কার্যক্রম নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায় নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা, স্কেল স্লিপ যাচাই এবং নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।

Spread the love


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *